দিদির ‘খেলা হবে’-র পাল্টা আক্রমণ মোদীর: ‘শিক্ষা হবে, স্বাস্থ্য হবে,’ বলে কটাক্ষ

0

পুরুলিয়া: বাংলার আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জোরকদমে চলছে দিদি-মোদী টক্কর। ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘খেলা হবে’স্লোগান কে ব্যবহার করে তাঁর ভোটের ‘থিমলাইন’ বানিয়ে তুলেছেন, বৃহষ্পতিবার মাঠে নেমেই প্রধান মন্ত্রী এবার সরাসরি তার মোকাবিলা শুরু করলেন। এদিন পুরুলিয়ার জনসভা থেকে মোদী বললেন , ‘‘দিদি বলছেন খেলা হবে। আমি বলছি, শিক্ষা হবে। স্বাস্থ্য হবে। হাসপাতাল হবে।’’ আরও বলেছেন, ‘‘দিদির খেলা শেষ! এবার পালা উন্নয়নের। মোদির এই কটাক্ষের পরেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী তিনটি নির্বাচনী প্রচারসভায় ‘খেলা হবে’ শব্দবন্ধই ব্যবহার করেছেন। এবং তাতে তাঁর জনসভায় উপস্থিত মানুষও সাড়াও দিয়েছেন।

সর্বত্র তৃনমূলের নেতা নেত্রী কর্মীদের মুখে ‘খেলা হবে’ স্লোগানই শোনা যাচ্ছে। এতদিন তৃনমূলের এই স্লোগানের উত্তরে বিজেপি কোনো পাল্টা জবাব দিতে পারেনি কিন্তু এবার সুবক্তা নরেন্দ্র মোদী তার পাল্টা স্লোগান চালু করে দিলেন এদিনের সভা থেকে। আগামীকাল মোদির সভা খড়গপুরে সেখান থেকেও আশা করা যায় এই স্লোগানই তিনি তুলবেন। রাজ্য রাজনীতিতে তৃনমূলের এই স্লোগান কে নিয়ে ইতিমধ্যেই চলছে সমালোচনা।তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল বলেছিলেন “ভয়ঙ্কর খেলা হবে” আর তারপর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো তথা সকল তৃণমূল নেতাদের মুখে এই স্লোগান “খেলা হবে”। তৃণমূলের এই স্লোগানকে অনেকেই মনে করছেন রাজনৈতিক হুমকি। মানুষকে ভিত করার চেষ্টা।

বৃহস্পতিবারের মোদির এই পাল্টা স্লোগানের উত্তরে বড়িষ্ঠ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন ‘ মোদী আসলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। উনি বুঝে গিয়েছেন, অসম জিততে পারবেন না। তাই বাংলাকে পাখির চোখ করেছেন। কিন্তু মমতা যে স্লোগান দিয়েছেন, তার মোকাবিলায় ওঁর স্লোগান ধোপে টিকবে না। প্রথমত, উনি বলছেন হিন্দিতে। দ্বিতীয়ত, উনি তো মমতার স্লোগান ধার করেই তাঁর স্লোগান আবিষ্কার করেছেন। এটা প্রতি আক্রমণ নয়। এটা অনুকরণ। যেমন উনি মমতার ‘পরিবর্তন’-এর স্লোগান অনুকরণ করে ‘আসল পরিবর্তন’-এর কথা বলছেন। এতে বাং লার মানুষ ভুলবেন না।’’

অপর দিকে মোদির এই স্লোগান কে ঘিরে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘মানুষ জানেন, নরেন্দ্র মোদী মানেই উন্নয়ন। তাঁর কাছে এটা মানুষের জন্য কাজ করা। ‘খেলা’ নয়। সেটা একটা পবিত্র কর্তব্য। সেটাই তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। তিনি যে ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’-এর কথা বলেন, সেটাই বাংলার ভোটারদের বুঝিয়েছেন। এটাই বিজেপি-র মন্ত্র। এটাই বিজেপি-র ইস্তাহার। এটাই আমরা বলতে চেয়েছি। বলতে চাইছি।’’ কার্যত বোঝাই যাচ্ছে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অত্যন্ত সরগরম হয়ে উঠেছে ঘাসফুল এবং গেরুয়া শিবির।