“নরেন্দ্র মোদীকে হারাতে হবে, না হলে বাংলায় কখনো পরিবর্তন আসবে না” বাঁকুড়া থেকে সুর চড়ালেন মমতা

0

কোতুলপুর, বাঁকুড়া: সোমবার বাঁকুড়ার কোতুলপুরের জনসভায় উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগের দিনই অর্থাৎ রবিবার বাঁকুড়ায় জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী এবং সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপির নানান প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন। সোমবার কোতুলপুরের জনসভা থেকে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিজেপি কে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সন্ধ্যায় বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে এবং সেই ইস্তাহারে একাধিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাঁকুড়া জনসভা থেকে এই ইস্তাহারের নিয়ে বিজেপিকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী, বলেছেন, “কংগ্রেস-বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে ওদের জোট টাকে ভেঙে দিতে হবে। মা-বোনেরা সতর্ক থাকুন ওদের জোট ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করুন। হয়েছিল আমার পায়ে চোট লাগার কারণে আমি হয়তো বাইরে বেরোতে পারবো না। কিন্তু আমার প্রান যতক্ষন আছে আমি লড়ে যাবো, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।

মমতা আরও বলেছেন, “আমি আমার মা বোনেদের পা দিয়ে হাঁটি। আমরা পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দিয়েছি ওরা দিয়েছে ৩৩ শতাংশ। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীকে হারাতে হবে। তা না হলে বাংলা কখনো পরিবর্তন আসবে না। আমরা বিজেপিকে আর চাই না। ওরা বাইরে থেকে গুন্ডা ভাড়া করে নিয়ে আসছে। এখন ৭ দিনে জাতি সংশাপত্র পাওয়া যায়। আমি প্রচুর কাজ করেছি। এত বছর বাঁকুড়াতে আছে একটা ট্রেন বাঁকুড়াকে দেয়নি। ১২১৮ কোটি টাকা দিয়ে বাঁকুড়াতে জল সরবরাহ প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছি। জয়রামবাটি কামারপুকুরে রাস্তা তৈরি করেছি। এত বছর রাস্তাঘাট নির্মাণের কোন রকম কাজ করা হয়নি। আপনাদের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে হাসপালন, মুরগি পালন প্রভৃতি কাজ করে সোনার বাংলা গড়ে তুলুন। মিড ডে মিল দেওয়া থেকে শুরু করে কন্যাশ্রীর জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, বিধবা ভাতা দেওয়া হয়েছে, রুপশ্রীতে ২৫ হাজার টাকা নিয়োগ করা হয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ট্যাব, স্মার্টফোনের টাকা দেওয়া হয়েছে। বছরে ৪ বার দুয়ারে সরকারের শিবির করা হবে।”

এখানেই শেষ নয় মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির ইস্তাহার নিয়ে বলেছেন, “৫ লক্ষ ছেলেমেয়েদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাঁকুড়াতে বাড়তি জল পৌঁছাবে। ওরা কোতুলপুরে কতুল করা ছাড়া আর কি করত। সে জায়গার আজ বদলে গিয়েছে। এখানে আজ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। পড়ুয়াদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্রেডিট কার্ড করা হবে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে। বাড়ির মেয়েদের জন্য ৫০০ টাকা করে হাত খরচের ব্যবস্থা করা হবে। গ্যাসের দাম হু হু করে বাজছে। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বিজেপি এলে আরো বাড়বে। আমরা চাই যাতে বিনামূল্যে মানুষের ঘরে কেন্দ্রীয় সরকার গ‍্যাস পৌঁছে দিক। আপনার ব্যাংকে যত টাকা জমানো আছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব শেষ করে দেবে। যারা বিজেপিকে ভোট দেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি আগের বছর নির্বাচনের সময় বিজেপি বলেছিল সব মানুষের একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে পাঠিয়ে দেবে কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তারা সমস্ত কিছু ভুলে যায়। পালিয়ে যায় সবাই।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here