ভোটের মুখে দলবদল, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ২০০ র বেশি সদস্য

0

পূর্ব মেদিনীপুর : নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই সব দলই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন গেরুয়া শিবিরে ঘনিয়ে আসছে দুর্যোগের কালো ছায়া। কারণ ইতিমধ্যেই জানা গেছে বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুলে যোগদান করেছেন ২০০ র বেশি কর্মী সমর্থক। পূর্ব মেদিনীপুরে রবিবার রাতে মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তিলক চক্রবর্তী মহিষাদল ব্লকের রমনীমোহিন মাইতি অঞ্চলের চিঙ্গুমারি এলাকায় একটি জনসভার আয়োজন করেন। সেই সভাতেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন ২০০ র বেশি সদস্য।

তাদের মধ্যে ছিলেন মোহনলাল মাঝি, নির্মাল খাঁড়া, রাধাশ‍্যাম দাসের মত আরও অনেকে। তাদের হাতে ঘাসফুলের পতাকা তুলে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তিলক চক্রবর্তী। এছাড়াও ঐ সভাতে উপস্থিত ছিলেন যুব তৃনমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য পার্থ মাইতি, মহিষাদল ব্লক যুব তৃনমূলের সভাপতি সঞ্জীব মাইতি সহ আরোও অনেকে। উল্লেখ্য ওই দিনই বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল এবং এই প্রার্থী তালিকা কে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে বিজেপির পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া বিভিন্ন জায়গায় দেওয়াল মুছে দেওয়ার মতো বিভিন্ন রকম ঘটনা দেখা গিয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। ফলে দলের অনেক সদস্যকেই বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। কার্যত একথা পরিষ্কার যে বিজেপির দলীয় অসন্তোষের মাধ্যমে আর কিছু হোক বা না হোক তৃণমূল অনেকটা স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে।

কারণ বিজেপির এই দলীয় অসন্তোষ এর ফলে কার্যত তৃণমূলের দলই ভারী হয়েছে। রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরে প্রচারে নেমে বিজেপিকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করেন। ময়নার জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘মা বোনে দের উদ্দেশ্যে বলছি বিজেপির অত্যাচার থেকে বাংলাকে রক্ষা করুন। তিনি আরোও বলেন বিজেপির নেতারা বাংলায় এসে শুধু হুমকি দেন আর চলে যান। এসব হুমকিতে আর ভয় পাব না। ওরা সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাহলে সোনার গুজরাত, সোনার ত্রিপুরা গড়তে পারল না কেন সেই উত্তর কি আছে ওদের কাছে। বিজেপিরা বাংলায় এসে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙছে, হাজার হাজার মানুষের ভাত কেড়ে নিয়েছে, ওরা আবার সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে। মানুষ সব দেখছে মানুষ সবই বুঝতে পারে। বাংলা তাই নিজের মেয়েকেই চায়। পদ্মফুল আর কেউ চায় না।’