নন্দীগ্রামে ত্রিমুখী লড়াই: তথাকথিত ‘অনামী’ মীনাক্ষীতে মজেছে আট থেকে আশি

0

নন্দীগ্রাম: ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’র নাম নন্দীগ্রাম। সেই রণভূমিতে রয়েছেন দুই ‘পরাক্রমী যোদ্ধা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁদের উপস্থিতিতেই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অস্বিত্ব জানান দিচ্ছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়— নন্দীগ্রামে এবারের ভোটে সংযুক্ত মোর্চার শরিক সিপিএমের প্রার্থী। গত কয়েক সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতা এবং বিজেপি’র প্রার্থী শুভেন্দুর বিশাল কনভয় যখন জমি আন্দোলনের আঁতুড়ঘর চষে বেড়াচ্ছে, তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন বামেদের এই যুব নেত্রী। তাঁকে কাছে পেয়ে গত পঞ্চায়েতে ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ জানাতে গিয়ে নন্দীগ্রামের মহিলাদের একাংশের চোখে আসছে জল। তো যুবকদের একাংশ রাজ্যে কর্মসংস্থান না হওয়ায় কীভাবে তাঁদের ভিন্‌ রাজ্যে যেতে হচ্ছে, সে কথা শোনাচ্ছেন।

সোমবারই নন্দীগ্রামে ২০০৭ এর ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ নিয়ে নতুন তরজার রসদ জুগিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন কারা গুলি চালিয়েছিল, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। দায়ী করেছেন অধিকারী পরিবার অর্থাৎ শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীদের। মমতা মনে করেন, সেদিন তাঁরাই ষড়যন্ত্র করে পুলিশকে গ্রামে ঢুকতে সাহায্য করেছিল।স্বাভাবিকভাবে মীনাক্ষীর সঙ্গে কথাবার্তায় প্রথমেই উঠে এল এই প্রসঙ্গ। নবীন প্রজন্মের সিপিএম প্রার্থী এ নিয়ে বড়ই বিমর্ষ। বললেন, ”তখন আমাদের সরকারকে দোষারোপ করেছিলেন বিরোধীরা। আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, তারা ক্ষমা চাইতে জানত। কোনও ভুল হলে জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ। নন্দীগ্রাম নিয়েও আমরা বলেছিলাম, পরে মানুষ বুঝতে পারবেন। আজ পারছেন। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, অন্যদিকে শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী। এঁরা উভয়েই নন্দীগ্রামে সেদিনের ঘটনা নিয়ে যেভাবে একে অপরকে দায়ী করছেন এখন, তা দেখে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মোটেই ভাল লাগছে না। তাদের এই দোষারোপ, ষড়যন্ত্রের জন্য নন্দীগ্রামের ছেলেমেয়েদের জীবন ৪০ বছর পিছিয়ে গেল।”

মীনাক্ষীর প্রচারে যুক্তি রয়েছে বলে মানছে বিরোধীরাও। নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা তথা স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘বাস্তব পরিস্থিতি একমাত্র মীনাক্ষী তুলে ধরতে পারছেন। তার বক্তব্যে আমাদের অবস্থা আমরা অনুভব করতে পারছি।’’ স্থানীয় সিপিএম নেতা মহাদেব ভূঁইয়া বলেন, ‘‘ভোটের প্রচারে তৃণমূল এবং বিজেপির ভাওতাবাজি জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মীনাক্ষী একেবারে যোগ্য।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here