সংঘাত অব্যাহত, মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আবারও হামলা ইরানের

0

বাগদাদ: ইরানের সেনাপ্রধান সোলেমানির মৃত্যু নিয়ে ইরাক-ইরান সংঘাত চরমে। সোলেমানির মৃত্যুর বদলা নিতে বেশ কয়েকবার মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান। রবিবার রাতে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আবারও ভয়াবহ হামলা চালাল ইরান। মার্কিন বায়ু সেনার রানওয়েতে চারটি রকেট হামলা চালায়।

বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে আল-বালাদ বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির রানওয়েতে পরপর চারটি রকেট হামলা করে। গতবারের হামলাতে কেউ জখম না হলেও এবারের হামলাতে আহত হয়েছেন চারজন। সংবাদসংস্থা এএফপি এমনটাই জানিয়েছে। শক্তিধর দুই দেশ ইরাক-ইরানের ছায়া যুদ্ধের জেরে বাগদাদের মার্কিন ঘাঁটি থেকে অধিকাংশ সেনাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সেনা সূত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরাকের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৫,০০ মার্কিন জওয়ান মোতায়েন করা রয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই হুমকির সুরে বলেছিলেন, “মিসাইল হামলা শুধু আমেরিকার গালে থাপ্পড় ছিল। বদলা এখনও বাকি।” ইরানের কুদোস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েই চলেছে।

ইরানের সেনা প্রধানের মৃত্যুতে আমেরিকার উপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে রয়েছে ইরান। তাই রোহানিয়া সরকার মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই রকেট হামলা চালিয়েছিল। গ্রিন জোনের সেই মার্কিন লক্ষ্য করেই রকেট হামলা করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের কাছে আগের মিসাইল হামলার ঘটনার কথা স্বীকার করে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে ইরান।

গত মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ ইরাকের দুটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান, এমনটাই জানানো হয়েছিল মার্কিন সেনার তরফ থেকে। ইরানের এই মিসাইল হামলার কথা স্বীকার করেছিল হোয়াইট হাউস। তবে হামলাতে কোনও কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অল ইজ ওয়েল’ বলেছিলেন ট্রাম্প।

ইরানের সেনাপ্রধান কাসেম সোলেমানির মৃত্যু নিয়ে দুই দেশই একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে ক্রমাগত। ইরাক-ইরানের পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে কোনও সময় বাধতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন তিনি যুদ্ধ নয় শান্তি চান। কিন্তু ইরাকের করা বারবার হামলা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে সোলেমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা।