করোনায় উদাসীন পাকিস্তান, নেই কোনও লকডাউন, চিকিৎসায় গোল্লা, নির্বাসনে আক্রান্তরা

0

ইসলামাবাদ : পাকিস্তান, যদি বিখ্যাত হয়ে থাকে তাদের ক্রিকেট ও শাস্ত্রীয় গানের জন্য, তাহলে কুখ্যাত হয়ে থাকবেন তাদের দুর্বল প্রশাসন ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর অভাবের জন্য। যখন গোটা বিশ্ব আজ এই করোনা ভাইরাস নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন, তখন পাকিস্তান যেন এ ব্যাপারে একেবারে উদাসীন। অন্যদের হলে হোক, আমাদের না হলেই হল – এমন একটা ভাবনা এসে গিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসনে। করোনায় যখন সমগ্র বিশ্ব বিজ্ঞানের ভরসায় রয়েছে, তখন পাকিস্তান ভরসা করছে তাদের সর্বশক্তিমান আল্লাকে। চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে না বলাই ভালো, প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব একেবারে স্পষ্ট। আর সবশেষে মানবিকতার প্রশ্ন আসলেও তাতেও একেবারে ফেল পাকিস্তান। চলুন, দেখে নিই করোনা নিয়ে পাকিস্তানের দুঃখের কাহিনী।

এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে ১২৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO বারংবার জানিয়েছে যে প্রত্যেকে যেন নিজেদের আইসোলেশনে রাখে, তখন পাকিস্তান দিব্যি রাস্তায় বেরিয়ে, ভিড় বাড়িয়ে নামাজ পড়তে ব্যস্ত। চাকরি গেলে যাক, আল্লাহের সেবা করা জরুরি। যেন আল্লাহই তাদের বাঁচাবেন করোনা থেকে, বিজ্ঞানীরা তো ব্যর্থই, এমনই ভাবনা তাদের। ভারতের মৌলবিরা যখন নির্দেশ দিয়েই দিয়েছেন বাড়ি থেকে নামাজ পড়ার কথা, তখন পাকিস্তান দিব্যি ভিড় বাড়িয়ে লেগে পড়েছে আল্লাহের কাছে দোয়া চাইতে। এদিকে সংখ্যালঘুরা নিজেদের মত করে মন্দির ও গির্জা বন্ধ রেখেছে।

গোটা বিশ্ব যখন একপ্রকার লকডাউনের আওতায় চলে গিয়েছে, পাকিস্তান যেন সকলের থেকে আলাদা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই লকডাউনের বিষয়েই কোনও কথা বলতেই রাজি নন। বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের মত করেই লকডাউন জারি করেছে। কেবলমাত্র সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং গিল্গিট-বালতিস্তানে সম্পূর্ণ লকডাউন জারি হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনই যদি এ বিষয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে দেশ কিভাবে বাঁচবে এই মারণ রোগ থেকে।

এদিকে পাকিস্তানে মোট ৯ জন মারা গিয়েছেন এই করোনার জন্য। অথচ পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা তো দূর, প্রয়োজনীয় সামগ্রীই নেই পাকিস্তানের হাসপাতালগুলিতে। একেই খারাপ পরিকাঠামো, তার উপর ডাক্তারের সংখ্যা কম, স্বাস্থ্যকর্মীরাও কম রয়েছে, আর এদিকে হু-হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাস যেন পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা দেখিয়ে দিল। এদিকে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, পাকিস্তান সেনা তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গিল্গিট প্রদেশে।

একটি দেশ যদি সর্বদাই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদীদের জামাই আদর করে রেখে দেয়, একটি দেশ যদি সর্বদাই যুদ্ধ-যুদ্ধ মনোভাব নিয়েই বেঁচে থাকে, তাহলে সেই দেশ এই কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করবে – এমনটা ভাবাও অন্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here