দ্বিতীয় দিনও চীনা আকাশসীমায় আমেরিকান গুপ্তচর বিমানের টহল, ক্ষিপ্ত ড্রাগন

0

বেজিং : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরপর দ্বিতীয় দিন মার্কিন গুপ্তচর সেনা বিমান চীনা আকাশসীমায় প্রবেশ করে, যেখানে পিএলএ-র সেনা লাইভ ফায়ার মিলিটারি এক্সারসাইজ মহড়ায় ব্যস্ত ছিল। চীন এটিকে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ বলেছে এবং বলেছে যে এটি ভুল বোঝাবুঝি এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বুধবার চীনা হুমকি উপেক্ষা করে টানা দ্বিতীয় দিন দক্ষিণ চীন সাগরের উপরে উড়তে দেখা যায় আমেরিকান বিমানকে।

বেজিংয়ের পূর্বে বোহাই বেতে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সামরিক মহড়া চলছে। মঙ্গলবার একটি U-2 গুপ্তচর সেনা বিমান চীনা আকাশসীমায় প্রবেশ করে পাশ দিয়ে যায়। বুধবার মার্কিন US RC-135S গুপ্তচর বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরের উপর দিয়ে উড়েছিল যেখানে দ্বিতীয় পিএলএ-র মহড়া চলছিল। আমেরিকান এয়ারক্রাফট বাশি চ্যানেল অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গেছে এবং একই পথে ফেরে। বেজিং ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সাউথ চীন সি প্রোবিং ইনিশিয়েটিভ (SCSPI) বুধবার এই তথ্য দিয়েছে। চীনা সরকারি মিডিয়া SCSPI-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, “এটি হাইনান দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী বর্তমান পিএলএ অনুশীলনের কাছাকাছি এসেছিল।”

চীনের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক গুপ্তচর বিমানটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তিটি জমা দেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেছেন, “এই সীমালঙ্ঘন চীনা সেনাবাহিনীর সাধারণ সামরিক মহড়া এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বায়ু এবং জল সুরক্ষা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এটি আন্তর্জাতিক বিধি ও আচরণেরও বিরোধী।”

উ আরও বলেন, “মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ভুল বোঝাবুঝি ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” চীনা মিডিয়া জানিয়েছে, সীমান্ত লঙ্ঘনের জন্য পিএলএ কমপক্ষে পাঁচটি U-2 সেনা বিমানকে গুলিবিদ্ধ করে নামিয়েছে। চীনা সামরিক বাহিনী বর্তমানে তিনটি পৃথক সমুদ্রে একযোগে সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে।