“নষ্ট করার মতো সময় নেই” আমেরিকার মসনদ বসেই ট্রাম্প নির্দেশিত একাধিক আইন বদলের নির্দেশ বাইডেনের

0

ওয়াশিংটন: “নষ্ট করার মতো সময় নেই।” আমেরিকার মসনদে বসার দিন এমনই ছিল নয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রথম প্রতিক্রিয়া। তাই বুধবার ২০ জানুয়ারি ওয়াইট হাউসে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ওভাল অফিসে বসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল জো বাইডেন প্রশাসন। ট্রাম্প নির্দেশিত একাধিক আইন বদলানোর নির্দেশ দিলেন তিনি। প্রায় ১৭টি কার্যনির্বাহী আদেশ, স্মারকলিপি এবং ঘোষণাপত্র সই করলেন বাইডেন। তাই আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম।

তার মধ্যে অন্যতম হলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আমেরিকার পুনরায় যোগদান। অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনকেও। সেই সঙ্গে আমেরিকায় পৃথিবীর অন্যতম প্রধান মুসলিম দেশগুলিতে যাওয়া-আসা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটিও তুলে দিয়েছে বাইডেন। এমনকি আমেরিকা-মেক্সিকোর সীমান্তে পাঁচিল তোলার জন্য যে তহবিল গড়া হয়েছিল তা বাতিল ঘোষণা করেছেন নয়া প্রেসিডেন্ট বাইডেন। পাশপাশি আমেরিকার অর্থনীতিতে স্বচ্ছলতা আনার ডাক দিয়েছেন। জোর দিয়েছেন ‘ঐক্যের’ উপর।

বাইডেন জানিয়েছেন, ‘‘আমি যে বিষয়গুলিতে আজ সই করব, সেগুলি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিবেশ বিষয়ক লড়াইয়ে আমেরিকার ভূমিকা, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই, বর্ণবৈষম্য ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের হয়ে কাজ করতে সাহায্য করবে। তবে এটাকে কেবল মাত্র একটা সূত্রপাত বলা যেতে পারে।” পাশপাশি আমেরিকার বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণ রুখতে শক্ত হাতে নামছে বাইডেন প্রশাসন। সূত্রের খবর, তিনি হোয়াইট হাউজে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে চলেছেন। পাশাপাশি সরকারি সমস্ত ক্ষেত্রেই কর্মীদের এই নিয়ম মেনে চলতে হতে পারে। সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখছেন বাইডেন।

উল্লেখ্য, এই একাধিক পরিবর্তন হওয়ার কথাই ছিল। কারণ নির্বিচানী প্রচারের সময় ট্রাম্পের বেপরোয়া নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাইডেন। তাই আমেরিকার মসনদ বসতেই তাই একাধিক নীতি পালটানোর নির্দেশ দিলেন।প্রসঙ্গত, ভোটের প্রচারে এবং তার পরেও ট্রাম্পের দ্বারা দেশের ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দেবে বাইডেন সরকার এমন ঘোষণা করেছিল ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ পরামর্শদাতারা। বাইডেন তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ঐক্যের উপরই জোর দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বের উদ্দেশ্যে একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসাবে নয় বরং প্রতিবেশী হিসাবে দেখার” প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। নাগরিক ও নেতাদের অনুরোধ করেছিলেন যে “বাহিনীতে যোগ দিন, চেঁচামেচি বন্ধ করুন এবং অশান্তির উত্তেজনা কমিয়ে দিন।”