বর্বরোচিত আচরণ, আন্দোলন দমাতে ৩৮ জন মানুষকে গুলি করে মারল মায়ানমার সেনা

0

ইয়াঙ্গন: সেনাদের অত্যাচারে গণতন্ত্রকামীদের রক্তে রক্তস্নাত মায়ানমারের রাজপথ। সেনা শাসন শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই ৫০ এর বেশি মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে তারা। একের পর এক রক্তক্ষয়ী দিনের সাক্ষী থাকছে গণতন্ত্রকামী মানুষরা। চাইছে গাণতন্ত্র। পরিবর্তে মিলছে মৃত্যু। রাস্তায় লাশের ছড়াছড়ি। শান্তি ফিরিয়ে আনার নামে নৃশংস গণহত্যা শুরু করেছে মায়ানমার সেনা। গত বুধবার ৩৮ জনকে গুলি করে মেরেছে সেদেশের সেনা ও পুলিশ। যা একদিনে সর্বাধিক। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। এর আগে ১৭ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে মারা হয়েছিল আন সাং সু কি-এর দেশে। একের পর এক নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দুনিয়া। মায়ানমারে সেনা শাসনের সমালোচনার ঝড় বিশ্ব জুড়ে।

গত বুধবার ঘটনাই জানান দিচ্ছে যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর কিরকম বর্বরোচিত আচরণ শুরু করেছে বার্মিজ সেনা। ভারি বুটের তলায় শ্বাসরোধ করে মারা হচ্ছে গণতন্ত্রকে। চূড়ান্ত দমন পীড়ন নিতি শুরু হয়েছে সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বুধবার পুলিশ ও সেনারা কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। আর তাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। যার মধ্যে শুধু ইয়াঙ্গনেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। মনওয়ায় ছজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি মৃত্যুর খবর এসেছে মান্দালয়, মিঙগিয়ান শহরগুলি থেকে। রক্ত ভেসে যাচ্ছে শহরগুলি। শুধু তাই নয়। গ্রেফতারও করা হয়েছে ৩০০ জন আন্দোলনকারীকে।

এ প্রসঙ্গে মায়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত ক্রিশ্চিন স্কেরানের বারজানের জানিয়েছেন, “সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এটাই সবচেয়ে বীভৎস রক্তক্ষয়ী দিন। একদিনে ৩৮ জনের মৃত্যু হল। ইতিমধ্যে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।” তবে এত কিছুর পরেও দমানো যায়নি আন্দোলনকারীদের। বৃহস্পতিবার আরও শক্তি নিয়ে পথে নামার হুশিয়ারি দিয়েছে তারা। অ্যাক্টিভিস্ট মং সাউংখা রয়টার্সকে বলেছেন, “আমরা জানি আমরা যেকোনও সময় গুলি খেতে পারি। এভাবে বেচে থাকার কোনও অর্থ হয় না। তাই আমরা এই পথ বেছে নিয়েছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

বুধবারের গণহত্যা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত ক্রিশ্চিন স্কেরানের বারজানের জানিয়েছেন, মায়ানামারের ডেপুটি সেনাপ্রধান সু উইনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেনা দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, এখনই এই বর্বরোচিত কার্যকলাপ বন্ধ না করলে বহু দেশে মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জবাবে সেনার পদস্থ কর্তা সাফ জানিয়েছে দিয়েছেন, এই ধরণের হুঁশিয়ারিতে তাঁরা অভ্যস্ত। সম্পর্ক ছিন্ন করলেও মায়ানমারের কোনও ক্ষতি হবে না।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ হঠাৎ সেনা শাসন জারি করা হয় মায়ানমারে। আটক করা হয় নেত্রী আং সাং সু কি ও তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগীদের। এই সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষ। শুরু হয় সেনাদের স্বৈরাচারী শাসন। দফায় দফায় সংঘর্ষ লাগছে সেনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিক্ষোভ কারীদের সায়েস্তা করতে ইয়াঙ্গন-সহ বেশ কয়েকটি শহরে বার্মিজ সেনার সাঁজোয়া বাহিনী ঢুকে পড়ে। গণতন্ত্রকে হত্যা করতে মরিয়া হয় সেদেশের সেনা। এর জেরে আন্তর্জাতিক স্তরেও নিন্দিত হতে হয় মায়ানমারকে। ওয়াইট হাউজও কড়া হুঁশিয়ারি দেয় মায়ানমারকে। ভুয়ো খবর ও হিংসাত্মক মূলক পোস্ট করার অভিযোগে মায়ানমার সেনা, Tatmadaw-এর মূল পেজই সরিয়ে দিয়েছে ফেসবুক।